সবার সংবাদ প্রতিবেদক:
ঠিকাদারি প্রথা বিলুপ্ত করে সরাসরি চাকরি স্থায়ীকরণ, শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কর্মসংস্থানের পূর্ণ নিরাপত্তার দাবিতে মেহেরপুরে উত্তাল মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিটি অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও কর্মচারীরা।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০দিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা প্রধান সড়কে মেহেরপুর লীফ রিজিওনাল অফিসের সামনে বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার প্লেকার্ড নিয়ে দফায় দফায় উত্তাল শ্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাঁরা বিএটিবির মাঠপর্যায়ের শতভাগ স্থায়ী প্রকৃতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তামাকচাষি নির্বাচন, চুক্তি সম্পাদন, বীজ ও সার বিতরণ, মাঠ পর্যবেক্ষণ, তামাক সংগ্রহ এবং কোম্পানির অত্যাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক অ্যাপ পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এই ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফরাই। অথচ অতিরিক্ত মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে এসব পদ ঠিকাদারি ও আউটসোর্সিং ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে এসে শ্রমিকদের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, শ্রম আইন ২০০৬-এর বিধিমালার ২০১৫ সালের ১৬(৫) এবং ২০২২ সালের ১৮(২) ধারা অনুযায়ী তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণ আইনি অধিকার। একইসঙ্গে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য বাৎসরিক লভ্যাংশ (ডব্লিউপিপিএফ) থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চলমান আন্দোলন হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো সুরাহা করেনি; উল্টো অধিকার আদায় বাঞ্চাল করতে শীর্ষ ২০ জন নেতাকে দূরবর্তী স্থানে বদলি এবং ৩৮ জন কর্মীর নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে হয়রানি চালানো হচ্ছে।
আইনি লড়াই ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুলাই থেকে দুই দফায় মোট ১৭ দিন এবং ৬ আগস্ট থেকে পুনরায় ১০ দিনের পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এখন কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নিচ্ছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম, হাসিবুর রহমান নাজমুল ইসলাম গিয়াস উদ্দিন ও মিলনসহ অন্যান্য নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠন সূত্র জানায়, বিএটিবির অধীনে থাকা ৮টি রিজিয়নে মোট ৩৮৬ জন ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ কর্মরত রয়েছেন। মেহেরপুর রিজিয়নের পাশাপাশি আল্লারদর্গা, চেচুয়া, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ রিজিয়নের শ্রমিকরা ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া রংপুর রিজিঝনেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদারি প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে বিএটিবিতে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে পিছপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।







